ফ্রান্সের বিমানবন্দরে ভারতীয়দের নিয়ে আটক বিমান মঙ্গলবার ভোররাতে মুম্বাই পৌঁছাল। বিমানে ছিলেন ২৭৬ যাত্রী। তবে ২৭ জন যাত্রী বিমানের সঙ্গে আসেননি। এর মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক-সহ ২৫ জন ফ্রান্সে আশ্রয়ের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। দুইজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
দুবাই থেকে নিকারাগুয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে জ্বালানি নিতে মাঝপথে ফ্রান্সের ভ্যাট্রি বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল বিমানটি। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মানব পাচারের সন্দেহে বিমান ও আরোহী সব যাত্রীকে আটক করা হয়। আটকের পর ফরাসি কৌঁসুলিরা যাত্রীদের দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর রোববার আদালতের রায়ে এয়ারবাস এ৩৪০কে ফ্রান্স ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
বিমানটি রোমানিয়ার কোম্পানি লিজেন্ড এয়ারলাইন্সের। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী লিলিয়ানা বাকায়োকো বলেন, বিমানটি ছেড়ে যাওয়ার সময় ২০০ থেকে ২৫০ জন যাত্রী ছিল। বাকিরা পুলিশ হেফাজতে নেই। তারা অন্যত্র চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিবিসি বলছে, বিমানটি ২৭৬ জন যাত্রী নিয়ে ফ্রান্স থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়। মূলত আশ্রয়ের জন্য আবেদন করার পর দুই নাবালকসহ ২৫ জন ফ্রান্সে থেকে গেছেন। আর ঘটনার আরও তদন্তের জন্য দুই সন্দেহভাজন পাচারকারীও ফ্রান্সে রয়েছেন।
তবে দুজনকে খালাস দিয়েছে ফরাসি আদালত। ভারতের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে লিজেন্ড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাইয়ে অবতরণ করে।
বিমানে থাকা অধিকাংশই সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কর্মরত ভারতীয় নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রীদের এক-তৃতীয়াংশ আবার ভারতের ধনী পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষও সন্দেহ করেছে, বিমানে থাকা লোকেরা যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় প্রবেশের চেষ্টার জন্য নিকারাগুয়ায় যাচ্ছিল। অবশ্য ফ্লাইটটি কেন নিকারাগুয়ার উদ্দেশ্যে পুনরায় যাত্রা শুরু করার পরিবর্তে মুম্বাই চলে এসেছে সেটিও স্পষ্ট নয়।
অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকার ফ্লাইটরাডার অনুসারে, লিজেন্ড এয়ারলাইন্স হলো রোমানিয়ান চার্টার এয়ারলাইন যার বহরে চারটি বিমান রয়েছে।